যশোহর প্রতিনিধিঃ যশোরের কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের মাহাবুবুর রশীদ শনিবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তার পিতা রজব আলী বিশ্বাস। তিনি কেশবপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যকুল গ্রামের শহিদুল্লার ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ যে সংবাদ সম্মেলন করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ তৎকালীন কেশবপুর উপজেলার হাতুড়ী বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় পাঁজিয়া বাজারে ডাকাতি মামলা রয়েছে যার নং-১৩, তারিখ-০২/১০/২০১৪।
অভিযোগ পত্র নং-১১০ তারিখ-১৫/০৬/২০১৬। সে ঐ মামলার চার্জশীট ভুক্ত ৯ নং আসামি। আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কেশবপুর আমলী আদালত যশোরে চাঁদাবজী মামলা আছে, যার সি.আর নং-৭৩৭/২০২৪। তার বিরুদ্ধে আরো মামলা চলমান। তার প্রতিবেশী ডাঃ হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। চিহ্নিত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজী হওয়ায় তার প্রভাব খাটিয়ে এই পরিবারকে একের পর এক হুমকি, ধামকি, জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত।
গত ৪ আগষ্ট ছাত্র জনতার উপর আক্রমনের পরিকল্পনাকারী ছিল এই আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ। তার প্লানেই ছাত্র জনতাকে টিএনও অফিসে তুলে নিয়ে আটকে রাখা হয়। ৫ আগষ্টের পরে সে দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিল। টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লিয়াজো করে এলাকায় ফিরে এসেছে। আর এসেই আবার সে তার পূর্বের চরিত্রে অপকর্ম করছে।
শুধু ফুয়াদ নয়, আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদের পিতা শহিদুল্লাহ মুন্সী ও নানা অপরাধে অভিযুক্ত। তিনি কেশবপুর সোনালী ব্যাংকে চাকুরী করা অবস্থায় আটক হন।
সোনালী ব্যাংক মনিরামপুর শাখায় চাকুরী করা অবস্থায় স্বাক্ষর জাল করে এক ব্যাক্তির ২ লাখ টাকা তুলে নেন । (দৈনিক রানার-২৩/০৯/২০১০)
ঝিনাইদহ হাট গোপালপুর সোনালী ব্যাংকে থাকা অবস্থায় ক্যাশ থেকে টাকা চুরির কারনে আটক হন।
বেনাপোল সোনালী ব্যাংক শাখায় চাকুরী করা অবস্থায় অবৈধ্যভাবে ভারতে কয়েন পাচারে জড়িত থাকার অপরাধে ব্যাংক তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। (দৈনিক রানার ২৮/১০/১৯৯৫)। এছাড়া সে আরো বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। ঐ সময়ের ব্যাংক কর্মকর্তারা এসব বিষয় জানেন।
যে জমি নিয়ে আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ সংবাদ সম্মেলন করেছে ঐ জমির প্রকৃত মালিক রজব আলী বিশ্বাস। শহিদুল্লাহ মুন্সী রজবের বাসা ভাড়া নিয়ে ভাড়াটিয়া হিসাবে প্রবেশ করে প্রায় ১ বছর পর ভোরে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রজবের পরিবারের উপর ঘুমন্ত অবস্থায় অতর্কিত আক্রমণ করে বাড়ি দখল করে নিয়ে বাড়ির লোকজন কে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মধ্যকুল গ্রামবাসী তার স্বাক্ষী। এসব বিষয়ে বেশ কটি শালিশ বিচার হলেও তারা কোন শালিষ বিচার মানেনি।
১৯৭৮ সালে ১৫ হাজার টাকা ঋণে সোনালী ব্যাংক মনিরামপুর থাকায় ৪০ শতক জমি মর্টগেজ রাখেন। যার সাক্ষী ছিল ঐ ব্যাংকের কর্মরত শহিদুল্লাহ মুন্সী। ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ঐ ব্যাংকের কিছু লোকের পরামর্শে ১৯৮১ সালে হাজী মিজানুর রহমানকে দলিল করে কিছু টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করা হয়। সম্পূর্ণ টাকা মিজানুর না দেওয়ায় ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ১৯৮২ সালে জমিতে ডিক্রী জারি হয়।
১৯৮৪ সালে ঐ ব্যাংকে কর্মরত এবং আগের লোনের সাক্ষী শহিদুল্লাহ রজবকে ভুল বুঝিয়ে ২০ শতক জমি নিজের নামে লিখে নেয়। তিনি বলেন ভাই এই জমির উপর আইসক্রিম ফ্যাক্টারি করতে হবে। রজব বলে আমার কাছে কোনো টাকা নেই। শহিদুল্লাহ মুন্সী বলেন টাকা লাগবে না, লোনের ব্যবস্থা করবো। আমার নামে দিলে ৪% সুদ, তোমার নামে নিলে ১১% সুদ। আমি যেহেতু ঐ ব্যাংকে কর্মরত সেহেতু লোনটা নিতে সহজ হবে। রজব সরল বিশ্বাসে তার নামে লিখে দেয়। ওরা ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
১৯৯৪ সালে রজবের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম তার বাপের বাড়ির জমি বিক্রয় করে হাজী মিজানুর রহমানের কাছ থেকে জমি খরিদ করে নেন।
২০০৮ সালে রজব আলী বিশ্বাস ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করলে ব্যাংক জমি লিখে দেয়। তাই এই জমির প্রকৃত মালিক রজব আলী বিশ্বাস। এখানে ব্যাংক এবং রজব আলী বিশ্বাসের মধ্যে মিজানুর রহমান, নুরুন্নাহার ও শহিদুল্লাহর ছল চাতুরির যে দলিল তা জাল। আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদের পিতা শহিদুল্লাহ মুন্সী ঐ ব্যাংকে চাকুরি করা অবস্থায় সাক্ষী থেকে কিভাবে নিজের নামে জমি লিখে নেয় তা যথেষ্ট গোলমেলে।
চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ও তার পিতা শহিদুল্লাহ মুন্সীর হাত থেকে রক্ষা পেতে মাহাবুবুর ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের হস্তাক্ষেপ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আরও পড়ুনঃ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা টিভি সাংবাদিক ফোরাম’র কমিটি গঠন
উপদেষ্টা:
প্রকাশক: মোছাঃ খাদিজা আক্তার
বিথী
সম্পাদক: আফজাল শরীফ
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ হারুন-অর-রশিদ
বার্তা সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম বাহার
সহকারী বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মাদ লিটন ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন জব্বারগঞ্জ বাজার,
বকশীগঞ্জ, জামালপুর
Copyright © 2025 দশানী ২৪. All rights reserved.