যশোর প্রতিনিধিঃ
যশোর রেলগেট রায়পাড়ায় মাদকের শক্ত সিন্ডিকেট। পাইকরি ও খুচরো শতাধিক মাদক কারবারি ওপেন সিক্রেট ব্যাবসা করছে। এসব কারবারিরা লোকাল রাজনৈতিক মদদপুষ্ঠ।
অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি হরে এখন যশোর শহরের রেলগেট, রেলগেট পশ্চিমপাড়া, কলাবাগান পাড়া ও রায়পাড়ায় অবৈধ মাদক দ্রব্য ইয়াবা, গাঁজার ব্যাবসা চলছে। তবে এখানে এখন ফেন্সিডিলের কারবার আগের চেয়ে কম।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলায় মুজিব সড়কের আশে পাশে পুটলা ও অর্থ লেনদেন হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ঐ বিক্রেতা যেমন চিন্নিত তেমনি ক্রেতা চিন্নিত খোর। খোর অর্থ নিয়মিত মাদক সেবনকারী।
স্থানীয়রা জানান, রেলগেট থেকে পূর্ব পশ্চিমে খড়কি ও শঙ্করপুর পর্যন্ত রেললাইন ও সংলগ্ন এলাকায় দেদারছে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা হচ্ছে।
এসব মাদক কারবারি নারী পুরুষ আগে স্থানীয় এক নেতার সেলটারে আওয়ামীলীগের মিছিল মিটিং করতো। এখন তারা একটি ডিস অফিসের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এরা nনিজেরাও বলে বেড়ায় তারা অমুকের লোক।
মাদক করবারে লিপ্ত চিন্নিত এসব মাদক কারবারিরা হচ্ছে, রায়পাড়ার ছোট, ছোটর ভাই সেকেন্দার,
রেলগেট পশ্চিম পাড়ার মৃত খালেকের স্ত্রী লাইলী, ছেলে শুকুর, মেয়ে সুমী, মৃত হিজড়া আবুলের বউ মনু, শহিদুলের বউ জোৎস্না, শহীদ ড্রাইভারের বউ হাসিনা,
মৃত রহমের ছেলে মুন্না চিন্নিত মাদক কারবারি।
মুজিব সড়ক বাইলেনে ইয়াবা বিক্রি হয় দেদার। এখানকার একটি পরিবারের সবাই ইয়াবা বিক্রির সাথে জড়িত। নান্টু ও অনুপ এখানকার মাদক ব্যবসায়ে মূলহোতা। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী ও বাবা-মা। সম্প্রতি নান্টু ও অনুপ দুইভাই পুলিশের হাতে আটক হয়। ইতোমধ্যে নান্টু জামিনে বেরিয়েছে। ছাড়া পেয়ে ফের ব্যবসা জোরদার করেছে।
যশোর শহরের রেলগেট, রায়পাড়া রেল স্টেশন খড়কিরসহ বেশ কিছু এলাকা ভাসছে অবৈধ মাদক দ্রব্যে। দেদারছে চলছে অবৈধ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র কারবার আর একই সাথে শুরু হয়েছে নিয়মিত ছিনতাই, খুন, জখমসহ নানা অপরাধ। মাদকের কারনে এসব অপরাধ হচ্ছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
এ সকল অপরাধ জগতের গডফাদার মাহাবুব আলম ম্যানসেল। আর ম্যানসেরের প্রধান সহযোগী হিসাবে কাজ করছে পলিথিন বাবু পট্টির শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী, আসিফ, জাফর,রুবেল ফয়সাল,বাপ্পি, টেটো সুমন, বিদ্যুৎ,সোহেল, পলিথিন বাবুসহ আরো অনেকে। তবে পলিথিন বাবু প্রধান সহযোগী হিসাকে কাজ করে দুই শ্যালক ইমদাদুল হক রাজু ও তাজু।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের রায়পাড়া এলাকার ইমদাদুল হক রাজু (৩৬) ও তাজু (৩২), ছোট এর স্ত্রী শিলি বেগম (৪২), একই এলাকার মরা‘র স্ত্রী আসমা বেগম (২৫), সেকেন্দারের স্ত্রী সাই বেগম (৪০), সেকেন্দার ছেলে হোসেন আলী (৩২), করিম গাজির ছেলে মিন্টু গাজি (৩০), লিয়াকতের ছেলে রাহমান (৩১), প্রিন্স (৩৮), লিয়াকতের ছেলে রহমান (৩৫) ও কুরবানের ছেলে জুম্মান (৩৫)।
রেল স্টেশন এলাকার রবিউল (৪৬), আবুল হোসেনের ছেলে রাজ্জাক (৩৪) ও লিয়াকতের ছেলে শানু হোসেন (৩০) ও রাজন (৩০),রেলগেট এলাকার মনির স্ত্রী নাসরিন বেগম (২৫), মুজিবরের স্ত্রী জহুরা বেগম (৪৪), জালালের ছেলে বাবু (৩৫), ছোটোর বউ শিলি (৩০) করিমের ছেলে সবুজ (২৯), মিন্টু (৩৪), আমিনুর (২৭), সম্পত্তির ছেলে সোহেল (২৮), মরা ও তার স্ত্রী আসমা, ব্লাক তপন (৩৫), শুকুর (৩০), ডালিমের ভাই লুতু (৪০),মারুফের ছোট বউ সুমি।
রেলগেট কলাবাগান পাড়া এলাকার ছোয়েদ ও স্ত্রী নার্গিস, সুফির ছেলে সোহেল (৩৫), শহিদুল (৪০), শাহীন(৪০),রকি (৩২), ডলার (৩০), চাঁন গাজি স্ত্রী আনু বেগম (৩৮), আজিজের ছেলে ডালিম হোসেন (৩৮), শিউলি (২৫) ও ছেদির ছেলে ফয়সাল (৩৮) ও খড়কির ইমরান (৩০) আমজাদের ছেলে কবির (৩৮) ও পিচ্চি রাজা ডিলারদের কাছ থেকে এসকল মাদক ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করে থাকে। এবং মুজিব সড়ক পঙ্গু হাসপাতালের সামনে জবা বেগম (২৮), মৃত আক্তার হোসেনের মেয়ে তিসা আক্তার প্রিয়া (২২) ও প্রিয়ার মা শাহানাজ বেগম (৫০) ও এ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী তিসা আক্তার প্রিয়ার সহযোগি রোকেয়া বেগম (৪৩)
কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হাফিজুর ইসলাম মরার মাদক সাম্রাজ্য চালায় তার স্ত্রী রেখা খাতুন। ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ সব ধরণের মাদকের ডিলার এই নারী। খুচরা ও পাইকারী দুভাবেই তার ব্যবসা চলে। বহুবার আটকের পরও থামেনি তার অবৈধ কারবার। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই ফের নিষিদ্ধ ব্যবসায়। মাদক বিক্রি ও বহনের কাজে শিশুদের কাজে লাগায় রেখা। এছাড়া মাদক বিক্রির জন্য তার রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ দল।রেলগেট পশ্চিমপাড়ায় মাদকের ভ্রাম্যমাণ কারবারীর সংখ্যা প্রায় ত্রিশ।
মাদক কারবারী রানা পরিবার পরিজন ও আত্মীয়দের নিয়ে গড়ে তুলেছেন ফেন্সিডিলের বাজার। তার বোন ফাতেমা ও ভগ্নিপতি টালি বাবু মাদকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয় শাহারিয়ার হোটেলের পেছনের এলাকায় নিজ বাড়ির পাশাপাশি ইজিবাইকে করে বিভিন্ন স্থানে মাদক পৌঁছে দেয় তারা।
শিশু জেলখানা পার হয়ে ইসরাইল ড্রাইভারের বাড়ির পাশের সাত শতক জমিতে বাড়ি করেছে মাদক কারবারি সুমি।তার মা রেলগেট পশ্চিমপাড়ার মাদক ডিলার মৃত নজিরের স্ত্রী লাইলি বেগম।তবে সুমির পিতা মৃত খালেক। খালেক মারা গেলে নজির কে বিয়ে করেছিল লাইলী। রেলগেট টু পুলেরহাট লোকাল ছাড়াও সারা দেশে রয়েছে এদের নেটওয়ার্ক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৪ মে তৎসময়ের এসপি আনিসুর রহমান তালিকাভুক্ত ১৪ মাদক ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ করেন। সে সময় এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেন করেন ঐ এসপি।
আরও পড়ুনঃ লাকসামে জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
Leave a Reply