মালিকুজ্জামান কাকাঃ পুলিশ বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতায় ফ্যাসিস্টের দোসর ও অবৈধ অস্ত্রধারীরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে।
তারা যশোর জেলার শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার নানা অপকৌশল আটছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সদস্যরা এই আলোচনা করেন। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, গুজব সৃষ্টিকারী, ভাড়াটিয়া খুনি, ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান বন্ধ থাকার সমালোচনা করা হয় এ সভায়।
জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম। সভায় জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াত, লোকসমাজ প্রকাশক ও প্রেসক্লাব সভাপতির পক্ষ থেকে সুষ্পষ্টভাবে জানানো হয়, পতিত সরকারের আমলে যারা অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়িয়েছে, বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের উপর হামলা করেছে, মারধর করেছে, নির্যাতন করেছে, পিটিয়ে এম এম কলেজের শিবির কর্মীদের হত্যা করেছে তারা এখনো বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এখনো বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছে তারা। অথচ পুলিশ একেবারে নিষ্ক্রিয়। এ সব সন্ত্রসী অস্ত্রধারীদের তালিকা করে বারবার জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশের কাছে জমা দিলেও কাউকে আইনের আওতায় নেওয়ার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
৫ আগস্টের পরও তারা কীভাবে এতটা বেপরোয়া থাকার সাহস পায় তা উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, কয়েকটি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে নিয়মিত ভুয়া তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নেওয়ার সমালোচনাও করা হয়।
কয়েকজন সন্ত্রাসীর নাম উল্লেখ করে এক জন আলোচক বলেন, যশোর পুলিশের কাছে অপরাধীদের তালিকা না থাকা মারাত্মক সমস্যা। তাছাড়া মাদক শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছানো, মোটরবাইকে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চলাচল, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়া, হঠাৎ হঠাৎ বিগত সরকারের অনুসারীদের কয়েকজন মিলে বিভিন্ন প্রান্তে জটলা শহরের পরিবেশ বিনষ্ট করছে। আইনশৃঙ্খলা ধ্বংস করার চেষ্টাও চলছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব সৃষ্টি ও শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টকারী, অপরাধী, সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চলবে।
এছাড়া সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য মজুদ করে বাজার অস্থিতিশীলকারীদেরও ছাড় দেয়া হবে না। মাদক বেচাকেনার স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে একেবারে নির্মুল করারও সিদ্ধান্ত হয়। বিশেষ করে ঈদের পর কিশোর ও যুবকরা মোটরসাইকেলে শোডাউন, মাদক কেনাবেচা ও সেবন করতে যাতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় গত রমজানের চেয়ে চলতি রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য অপেক্ষাকৃত কম উল্লেখ করে বোতলজাত সয়াবিনের কৃত্রিম ঘাটতির কথা আলোচনা হয়। এ সময় মজুদদার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
এ সময় জেলায় রোজা ও ঈদ উপলক্ষে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিভিন্ন উপায় ও ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে পুলিশ ও প্রশাসনকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। এমনকি আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ও শান্তি বজায় রাখায় জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপির সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপেরও প্রশংসা করা হয়।
রোববার সভায় উপস্থিত ছিলেন নবাগত পুলিশ সুপার রওনক জাহান, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার, জেলা পিপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সেনাবাহিনীর ক্যাপটেন সানজিদ আহমেদ, বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক(এডি) সোহেল আল মোজাহিদ, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মোহাম্মদ পারভেজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই- আলম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা জামায়াতের আমীর গোলাম রসুল, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান প্রমুখ।
আর-ও পড়ুনঃ নড়াইলে বিএনপি অফিসে বোমা বিষ্ফোরণের ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা
Leave a Reply